ফেসবুক কর্নার
|
আপডেট: ০১:৪০, আগস্ট ২৪, ২০১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
খালিদ হাসান
বৃষ্টি থামবৃষ্টি হচ্ছিল। চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে ‘ব্যাচেলরদের চা খাওয়া কেন শৌখিনতা হবে না’ তা নিয়ে গবেষণামূলক চিন্তা করছিলাম। ঠিক এমন সময় বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ক্যাম্পাসের আধা পরিচিত এক তরুণী আমার পাশে এসে দাঁড়াল। চিন্তা বাদ দিয়ে তরুণীকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। আহা, সে কি মধুর ভাবনা! বাইরে ঝুম বৃষ্টি। কত নাটক-সিনেমায় এই বৃষ্টির মাঝে হঠাৎ দেখা থেকে কত কিছুই হতে দেখেছি! এরই মধ্যে আমি তরুণীকে এক ঝলক দেখে অন্য দিকে তাকাই, সে আমাকে এক ঝলক দেখে আরেক দিকে তাকায়। দুজনে হঠাৎ একসঙ্গে তাকাই! এই বুঝি কিছু হয়! ভাবলাম, কিছু কি বলা উচিত? কী বলে শুরু করা যায়! স্লো মোশন, স্লো মোশন পরিবেশ। দমকা হাওয়া বইতে শুরু করল। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ যেন বলছে, ‘কথা বল আহাম্মক, কথা বল!’
আমি তরুণীর সামনে গিয়ে কথা বলতে যাব, ঠিক সে সময় তরুণী চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করল, ‘ওই বৃষ্টি, থাম থাম! ওই বৃষ্টি...!’ আমি এগোতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছি। মনে মনে হাঁফ ছাড়লাম, অল্পের জন্য পাগলের হাতে পড়িনি। বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। বৃষ্টিকে থামতে বলে! মাথার হাজার খানেক তার ছেঁড়া! এমন সময় দেখি, আরেক তরুণী ছাতা নিয়ে এগিয়ে এল। তরুণী সেই ছাতায় মাথা গলিয়ে গল্প করতে করতে চলে গেল আমার দৃষ্টিসীমানার বাইরে!
মোজাহিদুল ইসলাম
মাস খানেক আগে এক পরিচিত চাচা ফোন দিলেন, ‘হ্যাঁ বাবা, আজকে আমি কম্পিউটার কিনলাম। তুমি যদি এসে ফেসবুক চালায় আমাকে একটু দেখায়ে দিতা...।’ বললাম, ‘আঙ্কেল, ফেসবুক চালাতে তো ইন্টারনেট লাগবে। আগে ইন্টারনেট লাইন আনতে হবে, তারপর আপনি ফেসবুক, স্কাইপ—সবই চালাতে পারবেন।’ চাচা বললেন, ‘ঠিক আছে, যা যা লাগে, যত টাকা লাগে আমি দেব, তুমি ব্যবস্থা করো।’
পরদিন এলাকায় ইন্টারনেটের সংযোগ দেয়, তেমন এক লোককে নিয়ে গেলাম চাচার বাসায়। সব ঠিকঠাক করে পিসি রি-স্টার্ট করে নেট কানেকশন দিলাম। চাচাকে পিসির স্ক্রিনের নিচের ডান কোনায় দেখালাম, সেখানে কীভাবে ইন্টারনেট কানেক্ট করতে হয়। কানেক্ট হওয়ার পর সেখানে লেখা উঠল ‘লোকাল এরিয়া কানেকশন কানেক্টেড’। চাচা সেটা দেখে চোখ বড় বড় করে বললেন, ‘বাবা, আমি তো লোকাল ইন্টারনেট চাই নাই! ইন্টারন্যাশনালটা দাও। যত টাকা লাগে।’
চাচার কথা শুনে আমরা আর কী বলি! আমাদের ইন্টারন্যাশনাল, লোকাল দুই কানেকশনই আর কাজ করছিল না!
সাজ্জাদ আরিয়ান
Post a Comment