Monday, August 31, 2015

রবীন্দ্রনাথের বৈজ্ঞানিক কল্পগান

রবীন্দ্রনাথের বৈজ্ঞানিক কল্পগান

.
‘আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়/ লুকোচুরির খেলা।/ নীল আকাশে কে ভাসালে/ সাদা মেঘের ভেলা...।’ আমরা জানি, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান এটি। গানের কথাগুলো পড়লে বা শুনলেই বোঝা যায়, শরৎ ঋতু নিয়েই তা লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু না, এটি আসলে একটি বৈজ্ঞানিক কল্পগান! কীভাবে? পড়ুন আমাদের ব্যাখ্যা!
আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়
লুকোচুরির খেলা।
নীল আকাশে কে ভাসালে
সাদা মেঘের ভেলা।

 
ব্যাখ্যা১৯ আগস্ট ৩০২৫পৃথিবীর যে ধানখেত একসময় সোনালি ধানে ভরে থাকত, যে ধানখেতে একসময় খেলা করত দখিনা বাতাস, সেই ধানখেতে তখন লুকোচুরি খেলছিল রোদ আর ছায়া। বাংলাদেশ বিজ্ঞান সংস্থার প্রধান হতাশামাখা কণ্ঠে বললেন, ‘পৃথিবী আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পৃথিবীর কোথাও ঠিকমতো শস্য উৎপাদন হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে যাবে! তাই আমরা আমাদের প্রধান মহাকাশ গবেষক ও তাঁর দলকে গতকাল মহাশূন্যে পাঠিয়েছি। রেন্ট-এ-রকেটে অর্ডার দিয়েও কোনো রকেট মেলেনি; ফলে সাদা মেঘের ভেলাই শেষ ভরসা!’
আজ ভ্রমর ভোলে মধু খেতে,
উড়ে বেড়ায় আলোয় মেতে,
আজ কিসের তরে নদীর চরে
চখাচখির মেলা।
 

ব্যাখ্যা
২০ আগস্ট ৩০২৫
আজ মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রের ভেলা শাখার প্রধান জানিয়েছেন, ভেলায় চড়ে রওনা দেওয়া মহাকাশচারীরা একটি গ্রহে মধুর সন্ধান পেয়েছেন। এখন সেখানে তাঁরা মধু খেতে ব্যস্ত আছেন। তবে বড় দুঃখের বিষয় হলো ওই গ্রহের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, তাদের এক নদীর চরে ‘চোখাচোখির’ মেলা বসেছে, পাশেই একটি মধুর খেত আছে। আর সেখানে পৃথিবীবাসী কয়েকজনকে দেখা গেছে। কর্তব্যে নিদারুণ অবহেলা! দ্বিতীয় খবরটা শুনে ভীষণ চটে গেলেন বিজ্ঞান সংস্থার প্রধান।
রুমজুড়ে বিশাল হলোগ্রাফিক পর্দায় চোখ রেখে বললেন, ‘ভিনগ্রহে গিয়ে যদি ওরা এভাবে কুকর্ম করে বেড়ায়, সে দায়িত্ব কে নেবে? নদীর চরে বসে “চোখাচোখি”র মেলা বসিয়ে ওরা পৃথিবীর নাম কলঙ্কিত করল। নারী নির্যাতনের মামলা হলে কে বাঁচাবে ওদের! পৃথিবীর এই দুঃসময়ে ওদের এই আচরণ মোটেও কাম্য নয়!’ তবে পৃথিবীর মহাকাশচারীরা অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একটি বার্তা
পাঠালেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।
ওরে যাবো না আজ ঘরে রে ভাই,
যাবো না আজ ঘরে!
ওরে আকাশ ভেঙে বাহিরকে আজ
নেব রে লুঠ করে।
. 

ব্যাখ্যা
২১ আগস্ট ৩০২৫
পরদিন ভেলা থেকে বিজ্ঞান সংস্থাকে আরেকটি বার্তা পাঠালেন মহাকাশচারীরা। সেখানে তাঁরা বললেন, মামলার ভয়ে তাঁরা শিগগিরই আর ঘরে ফিরে আসতে চাইছেন না! কারণ, যে গ্রহে গিয়ে তাঁরা মামলায় ফেঁসেছেন, সেই গ্রহের মামলা বড় ভয়ানক এবং তা আন্তমহাজাগতিক। ফলে যে গ্রহেই থাকুক না কেন, অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। তাই কিছুদিন পর পৃথিবীতে ফেরাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর হলো, ওই গ্রহের আকাশের বাইরে বিশাল এক খাবারের গুদামের সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। অল্প সময়ের মধ্যে ওই আকাশ ভেঙে বাইরে গিয়ে সব খাবার লুট করে নেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। সেটা সত্যি হলে পৃথিবীবাসীর খাবারের অভাব ঘুচে যাবে কয়েক শ বছরের মতো!
যেন জোয়ার জলে ফেনার রাশি
বাতাসে আজ ফুটেছে হাসি,
আজ বিনা কাজে বাজিয়ে বাঁশি
কাটবে সারা বেলা।
 

ব্যাখ্যা২২ আগস্ট ৩০২৫
এক দিন পরেই আরও বড় সুখবর এল পৃথিবীতে। ভিনগ্রহের ওই অনলাইন সংবাদমাধ্যমের খবরটি আসলে ‘চোখাচোখি’ নিয়ে ছিল না! পৃথিবীর মতো ওই গ্রহেও চখাচখি পাখি আছে, আর সেগুলোই নদীর চরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। প্রকৃতি–বিষয়ক একটি খবরের ভুল ব্যাখ্যার কারণেই পৃথিবীর কজন নিষ্পাপ মহাকাশচারী ভিলেনে পরিণত হতে যাচ্ছিলেন। বিজ্ঞান সংস্থার প্রধান অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিও দিলেন। তবে সবচেয়ে বড় সুখবর হলো সত্যিই আকাশ ভেঙে খাবারের গুদামটি লুট করতে পেরেছেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা! খবরটা পৃথিবীতে পৌঁছাতেই সমুদ্রের জোয়ার জলে আবার ফেনার রাশি দেখা গেল, বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগল মানুষের হাসির শব্দ। তবে অতি উৎসাহীরা সেই পুরোনো দিনের মতোই ভুভুজেলা বাঁশি বের করে আনল ঘর থেকে। সারা বেলা সেগুলো বাজাতে বাজাতে অস্থির করে তুলল বাদবাকি সবাইকে! মানুষের মুখে তবু বিরক্তি নেই, আজ যে তাদের বড় আনন্দের দিন!

  • 0Blogger Comment
  • Facebook Comment

Post a Comment